মধু-বাদাম তো সবাই বেচে, কিন্তু ‘ঘরের বাজার’ কেন একাই রাজা? (মার্কেটিং সিক্রেট)


বাংলাদেশে এখন ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই অর্গানিক ফুড বিজনেস শুরু করেন। কিন্তু ৬ মাস পর ৯৫% পেইজ হারিয়ে যায়। অথচ এই ভিড়ের মধ্যেই Ghorer Bazar এবং জামশেদ ভাই এমন একটা ব্র্যান্ড দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে কাস্টমাররা চোখ বন্ধ করে অর্ডার করেন। কী তাদের সিক্রেট?
এই লেখাটি শেয়ার করুন
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা এটা থেকে উপকৃত হতে পারেন
বাংলাদেশে ই-কমার্সে নামতে গেলেই ১০ জনের মধ্যে ৭ জন শুরু করেন মধু, ঘি আর সরিষার তেল দিয়ে।
ফেসবুকে স্ক্রল করলেই হাজার হাজার পেইজ—সবাই দাবি করছে তাদেরটাই "খাঁটি"।
কিন্তু ৬ মাস পর দেখা যায়, ৯৫% পেইজ বন্ধ হয়ে গেছে।
অথচ এই ভিড়ের মধ্যেই 'ঘরের বাজার' (Ghorer Bazar) এমন একটা ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাদের নাম শুনলে মানুষ আর দ্বিতীয়বার ভাবে না। চোখ বন্ধ করে অর্ডার করে দেয়।
কেন? তাদের মধুতে কি সোনা মেশানো আছে? নাকি তাদের কাছে আলাদীনের চেরাগ আছে?
না। তাদের সিক্রেট রেসিপি একটাই— তারা ‘পণ্য’ বিক্রি করে না, তারা ‘বিশ্বাস’ বিক্রি করে।
একজন ছোট ব্যবসায়ী হিসেবে ‘ঘরের বাজার’ থেকে আপনার ৪টি বড় শিক্ষা নেওয়ার আছে। আসুন, তাদের সফলতার অপারেশন করি।
১. লোগো নয়, মানুষের মুখই আসল ব্র্যান্ড
বড় এজেন্সিরা আপনাকে বলবে— "ব্র্যান্ডিং মানে হলো সুন্দর লোগো আর কালার কম্বিনেশন।"
ভুল! বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং মানে হলো মালিকের মুখ।
'ঘরের বাজার'-এর প্রতিষ্ঠাতা জামশেদ মজুমদার ভাই শুরু থেকেই একটা কাজ করেছেন—তিনি নিজে ক্যামেরার সামনে এসেছেন।
তিনি কোনো প্রফেশনাল মডেল ভাড়া করেননি। তিনি নিজে পণ্য হাতে নিয়ে কথা বলেছেন, দেখিয়েছেন, বুঝিয়েছেন। (এখনও সেটাই করেন!)
কেন এটা কাজ করলো?
আমাদের দেশের মানুষ কোম্পানিকে বিশ্বাস করে না, মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করে।
যখন কাস্টমার দেখে একজন হাজী সাহেব বা একজন সাধারণ ভদ্রলোক নিজে গ্যারান্টি দিচ্ছেন, তখন তাদের মনে হয়— "ইনি আমাকে ঠকাবেন না।"
আপনার পেইজে কি শুধু পণ্যের ছবি? নাকি সেখানে আপনার মুখটাও আছে?
২. নাম যখন আবেগের সাথে মিশে যায়
খেয়াল করেছেন তাদের নামটা? "Super Organic Food Ltd" বা "Premium Agro" নয়।
নামটা হলো— 'ঘরের বাজার'।
এই নামটা শুনলেই মনে হয় এটা কোনো দোকান না, এটা আমার পরিবারের নিত্যদিনের বাজার।
তারা এমন একটা নাম বেছে নিয়েছে যেটা বাঙালির আবেগের সাথে মিশে আছে। তারা নিজেকে "লাক্সারি" বা "বড়লোকী" ব্র্যান্ড হিসেবে দেখায়নি, দেখিয়েছে "বিশ্বস্ত পারিবারিক সহযোগী" হিসেবে।
শিক্ষা: আপনার ব্যবসার নাম বা স্লোগান এমন রাখুন যেটা মানুষের মনে আপন মনে হয়। নিজেকে অহেতুক "কর্পোরেট" দেখাবেন না।
৩. ওয়েবসাইট যখন ‘সেলস মেশিন’, শোরুম নয়
অনেকে মনে করেন, ওয়েবসাইট মানেই হলো সেখানে ১০০ রকমের ডিজাইন থাকবে, স্লাইডার নড়বে, জটিল এনিমেশন হবে।
কিন্তু 'ঘরের বাজার'-এর ওয়েবসাইট (ghorerbazar.com) দেখেছেন?
এর চেয়ে সিম্পল ওয়েবসাইট বাংলাদেশে খুব কম আছে।
- কোনো অপ্রয়োজনীয় লেখা/ফাংশনালিটি নেই।
- শুধু পণ্যের ছবি, নাম, দাম—আর "অর্ডার করার বাটন" (যেটাই আসলে দরকার)
তারা জানে, কাস্টমার ফেসবুকে ভিডিও দেখে কনভিন্স হয়েই এসেছে। এখন ওয়েবসাইটে তাকে আর নতুন করে পটানোর কিছু নেই। এখন শুধু দ্রুত অর্ডার নেওয়াটাই কাজ।
এটাই হলো আমার "সেলস মেশিন" থিওরি। ওয়েবসাইটকে হতে হবে ক্যাশ কাউন্টারের মতো ফাস্ট, আর্ট গ্যালারির মতো জটিল নয়।
নিজের ব্যবসাকেও কি ‘ঘরের বাজার’-এর মতো অটোমেটেড করতে চান?
ভয় নেই, আমরা কোনো জটিল টেকনিক্যাল কথা বলবো না। আপনার ব্যবসার বর্তমান অবস্থা বুঝে ঠিক কোন সলিউশনটা দরকার—তা নিয়ে আসুন একটা ‘ডিজিটাল চা আড্ডা’ দেই।
কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু একটা বন্ধুসুলভ আলাপ।
৪. প্রবাসীদের ইমোশনকে টার্গেট করা
‘ঘরের বাজার’ খুব স্মার্টলি একটা কাজ করেছে—তারা টার্গেট করেছে প্রবাসীদের।
যারা বিদেশে থাকে, তারা দেশের পরিবারের জন্য ভালো মানের খাবার খাওয়াতে চায়। তাদের হাতে খাঁটি জিনিসটা তুলে দিতে চায়। তাদের কাছে টাকার চেয়ে ইমোশন বড়।
তারা যখন দেখে জামশেদ ভাই খাঁটি জিনিসের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, তারা বিদেশ থেকেই পরিবারের জন্য অর্ডার করেন।
আপনার ব্যবসার জন্য শিক্ষা (Bebshar Dost Takeaway)
'ঘরের বাজার' প্রমাণ করে দিয়েছে—
❌ আপনার লাখ টাকার চকচকে ওয়েবসাইটের দরকার নেই।
❌ আপনার কোটি টাকার অফিসের দরকার নেই।
❌ আপনার কঠিন ইংরেজি বলার দরকার নেই।
আপনার দরকার:
✅ ১. বিশ্বাস: ক্যামেরার সামনে আসুন, নিজের গল্প বলুন।
✅ ২. সরলতা: কাস্টমারকে ভোগাবেন না। অর্ডার প্রসেস সহজ করুন।
✅ ৩. সেলস মেশিন: এমন একটা ওয়েবসাইট যা কাস্টমারের অর্ডার নিতে ১ মিনিটও সময় নষ্ট করে না।
আপনি যদি জামশেদ ভাইয়ের মতো ভিডিও কনটেন্ট বানাতে পারেন, তবে সেই ট্রাফিককে সেলসে কনভার্ট করার জন্য একটা "সহজ সেলস মেশিন" বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।
বড় এজেন্সির গালগল্পে না ভুলে, আসুন প্রাকটিক্যাল ব্যবসা করি।
আপনার ব্যবসাকে কি ‘ঘরের বাজার’-এর মতো অটোমেটেড করতে চান?
আজই বুক করুন একটি ফ্রি ডিজিটাল চা আড্ডা। ☕
'ঘরের বাজার’ স্টাইলে সিম্পল ওয়েবসাইট বানাতে চান?
লাখ টাকার বাজেট বা টেকনিক্যাল জ্ঞানের দরকার নেই। জামশেদ ভাইয়ের মতো সিম্পল এবং ফাস্ট ওয়েবসাইট দিয়ে কাস্টমারের বিশ্বাস জিতুন।
ডিজিটাল শোরুম
যাদের বাজেট কম কিন্তু বিশ্বাস অর্জন করা জরুরি
- অল-ইন-ওয়ান প্রোডাক্ট শোকেস
- সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ সেলস ফানেল
- ৫-৭ দিনে ডেলিভারি
ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টোর
যারা ব্যবসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও অটোমেশন চান
- কমপ্লিট ই-কমার্স সিস্টেম
- নিজেই প্রোডাক্ট যোগ করুন (CMS)
- ১২-১৫ দিনে ডেলিভারি
এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?
কোনো সমস্যা নেই! আসুন, এক কাপ 'ডিজিটাল চা আড্ডা' ☕ করি। আমরা আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেব।
হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলুনএই লেখাটি শেয়ার করুন
আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা এটা থেকে উপকৃত হতে পারেন
আপনার মতামত জানান
এই লেখা সম্পর্কে আপনার কী মনে হলো? নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার প্রশ্ন বা মতামত আমাদের অনুপ্রাণিত করে। 💬

Md. Shamim Hossain
Founder & Digital Dost
Helping small businesses get customers online.
আরও পড়ুন

আপনার ১০,০০০ ফলোয়ার, কিন্তু পোস্ট দেখে মাত্র ২০০ জন? (ফেসবুক অ্যালগরিদম এর আসল সত্যি)
ফেসবুক বন্ধু নয়, ব্যবসা। ২০১৮‑তে পোস্ট ২০‑৩০% ফলোয়ার দেখত, এখন মাত্র ২‑৫%। ১০,০০০ ফলোয়ারে ৯,৫০০ জনকে লুকিয়ে রাখে—তাই Boost করুন, নয়তো আপনার পোস্ট হারিয়ে যাবে। ফ্রিতে বিক্রি করতে চাইলে, ফেসবুক আপনার পোস্টকে অদৃশ্য করে দেয়।


ফেসবুকে ‘সেল পোস্ট’ দিয়েও সেল পাচ্ছেন না? এই ১২টি জাদুকরী কন্টেন্ট টেমপ্লেট আপনার জন্য
আপনি কি প্রতিদিন ফেসবুকে পণ্যের ছবি আর দাম দিয়ে পোস্ট করছেন, কিন্তু ১০টাও লাইক পাচ্ছেন না? বুস্ট করছেন, মেসেজ আসছে, কিন্তু সেল কনফার্ম হচ্ছে না? দোস্ত, আপনি একা নন। বাংলাদেশের হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ী (F-commerce Uddokta) এই একই সমস্যায় ভুগছেন।
